বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আদিত্য
আদিত্য
সকল গল্প ও রচনায় ফিরে যান
প্রবন্ধ

যৌনতার দিনরাত্রি এবং......

যত কথা বলছি তত বুঝতে পারছি নব প্রজন্মের মধ্যে একটা বিশেষ চাহিদা এসেছে। হয়ত সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে নিজেকে নতুন করে খোঁজার চাহিদা। অথবা আধুনিক ওয়েব সিরিজের যুগে নিজেকে সিনেমার পল্ট ভেবে নেওয়া। কথায় আছে সিনেমার পল্ট আসে বাস্তব থেকে থাকলে বাস্তব আগে

আদিত্য ঘোষ

আদিত্য ঘোষ

১৩ আগস্ট, ২০২৬৫ মিনিট পাঠ

যৌনতার দিনরাত্রি এবং......
|যৌনতার দিনরাত্রি
তখন আকাশে মেঘের ঘনঘটা, জুলাইয়ের শুরুটা যেমন হওয়া উচিত ছিল ঠিক তেমন নয় শহরের আকাশটা তবুও আজ অনাদরে থাকা যায় না। ঝিরঝিরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, গরমটা এক ধাক্কায় ব্যাক গিয়ার মেরে অনেকটা পিছনে ফিরে গিয়েছে। আজ বাঙালির খিচুড়ি আর ইলিশ খাওয়ার দিন। আজ বাঙালির যৌনতা উদযাপনের দিন। পরিসংখ্যান বলে এমন দিনগুলোতে কন্ডোমের বিক্রি বেড়ে যায়। যেমন ২০২৩ সালে আইপিএল ফাইনালের দিন কন্ডোম বিক্রি হয়েছে দেদার! মুম্বই নিবাসী এক বাঙালি পরিচিতার সঙ্গে কথা হচ্ছিল। একটি বহুজাতিক সংস্থার কর্মী বছর আটত্রিশের সেই মহিলা অদ্ভুত একটি কথা বললেন। তিনি বললেন, "বাঙালি মেয়েরা যৌনতার জন্য বর বা প্রেমিকা বা অন্যকারুর প্ৰতি বেশী নির্ভরশীল হয়ে যাচ্ছে। এটা ঠিক নয়। আমি তো মনে করি এতে নারী স্বাধীনতার হস্তক্ষেপ করা হয়। আমি যেমন কারুর প্রতি নির্ভরশীল থাকি না। যখন প্রয়োজন হয় তখনই স্বমেহন করে থাকি। এতে আমি ভাল থাকি।" কথাগুলো তিনি একদম গড়গড় করে বলে গেলেন। আমিই উল্টে অস্বস্তিতে পড়ে গেলাম। বাঙালি এখন যৌনতা নিয়ে অনেক সাবলীল হয়েছে। পরিণত হয়েছে। নিজের শরীর দেখিয়ে উপার্জনের রাস্তা তৈরি করেছে। ভুল কিংবা ঠিক সেটা বলার আমি কেউ না। তবে বাঙালির মানসিকতার পরিবর্তন হয়েছে।

একটা পুরোনো ধ্যানধারণা ভেঙে বাঙালি অজানা পথে এগিয়ে যাচ্ছে। যে পথের সঙ্গে অর্থনীতির পরোক্ষ ভাবে যোগাযোগ রয়েছে। যদিও এই অর্থনীতি দেশের জিডিপির হাল ধরবে না ছাড়বে সেই নিয়ে তর্ক হতেই পারে তবে আপাতত বাঙালির যৌন রক্ষণশীলতা যে ভেঙেছে সেটা বলাই যায়। খুব ভাল করে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়ার আনাচে কানাচে বিভিন্ন লিঙ্ক ঘুরে বেড়াচ্ছে। না কোনও ভিডিওর লিঙ্ক নয়। ওগুলো অ্যাপলিকেশন লিঙ্ক! যে অ্যাপলিকেশনের সাহায্যে নিজের খোলামেলা ছবি দেখানো যাবে এবং যারা দেখতে চাইবে তারা সাইস্ক্রাইব করতে পারবে। মাস গেলে মোটা টাকার গল্প! মূলত কোভিড পরবর্তী সময়ে এইসবের আমদানি ঘটেছে। বিদেশে এইসবের চল থাকলেও এদেশে এসব খুব একটা সুবিধে করতে পারেনি। কিন্তু বিগত তিন বছরে একটা ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এই ধরছেন অ্যাপলিকেশন। যেমন জয়েন মাই অ্যাপ, প্যাটরিয়ন, স্কাইই.ক্লাব এবং প্রমুখ। বাঙালির নবপ্রজন্ম চুটিয়ে এইসব অ্যাপলিকেশন ব্যবহার করে উপার্জন করছে। তেমনই একজনের সঙ্গে বেশ অনেক্ষণ কথা হচ্ছিল। মধ্যবয়সী বাঙালি গৃহবধূ এখন ইনস্টাগ্রামের হট ফেভারটি। মূলত মডেলিং করেন। তিনিই বেশ কয়েকবছর ধরে একটি অ্যাপলিকেশন ব্যবহার করেন। সেখানেই তিনি তার 'বিশেষ' ছবি দেখিয়ে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেন। তিনি জানালেন, " এগুলো নিয়ে কথা হওয়া বা জিজ্ঞাসা করার কি প্রয়োজন আছে?" একটু থেমেই তিনি জানালেন, " কত কত তো নামীদামী অভিনেত্রী কত খোলামেলা দৃশ্যে অভিনয় করছেন তখন তো এত কথা হয় না?" পাল্টা বললাম, " কিন্তু এইরকম অ্যাপলিকেশন তো তারা ব্যবহার করছেন না, এই ব্যাপারটা নতুন।" তখন কিছুটা নমনীয় হয়ে তিনি বললেন, " হ্যাঁ সেটা হতে পারে তবে আমি যেটা করছি সেটা আমি বিশ্বাস করেই করছি। আর আমার কাজটুকু ওই অবধি, মানে সেভাবে লোকে আমাকে দেখছে আমি সেইরকম নয়। ওই ব্যাপারটাকে আমি কাজ হিসেবে নিই।" এইরকম সোজাসাপটা উত্তর পেতে ভাল লাগে। অর্থাৎ যা করছি বেশ করছি, এই রকম একটা ব্যাপার। তবে একটা কথা জানিয়ে রাখা ভাল এই অ্যাপলিকেশন মারফৎ যে টাকা আসে সেটার থেকে তৎক্ষণাৎ একটা অংশ ট্যাক্স কেটে নেওয়া হয়! মানে ব্যাপারটা জলের মতো পরিষ্কার।

যৌনতার দিনরাত্রি
যৌনতার দিনরাত্রি

এককাপ গ্রীন টি নিয়ে বসলাম। বেলা গড়াচ্ছে, ধীরে ধীরে আকাশ তার পসরা সাজিয়ে বসছে। মেঘদল ভিড় করছে, একটা মায়াবী পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। আমার এক পরিচিতাকে ফোন করলাম, বছর পর পঁচিশের অবিবাহিতা সেই মেয়েটি এই মুহূর্তে কলকাতার বাইরে থাকলেও তিনি কলকাতার এক নামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী। যদিও এই মুহূর্তে পড়াশুনোর জন্যই বাইরের তবুও কলকাতা তার প্রিয়। তার সঙ্গে যৌনতা নিয়ে অনেক কথা হলো, কথা হলো অ্যাপলিকেশন সংক্রান্ত বাঙালির ফ্যান্টাসি নিয়ে। তবে অনেক কথার মধ্যে সেই মেয়েটি বলল, " দুজন মহিলা যখন যৌনতায় লিপ্ত হয় সেখানে একজন মহিলা স্বাধীনভাবে অনেক বেশী উপভোগ করতে পারে। আমার মনে হয় সেখানে একজন মহিলা অনেকটা নিজের শরীরকে চিনতে পারে! তাঁকে থামিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম," তাহলে কি তুমি সমকামী যৌনতায় বিশ্বাসী?" তিনি বললেন," আমি সমকামী যৌনতাকে সম্মান করি তবে আমি স্ট্রেইট! " মেয়েটির বক্তব্য কিছুটা পরস্পর বিরোধী হলেও সেটি তার ব্যক্তিগত মতামত। সেখানে আমার কিছু বলাটা উচিত নয়। আবারও তাকে জিজ্ঞাসা করলাম," বিশেষ কোনও ফ্যান্টাসি আছে?" তিনি বললেন," না। তবে একবার ইচ্ছে আছে খোলা আকাশের নীচে যৌনতায় লিপ্ত হব।" তিনি স্বাবলীল ভাবে সব বলে গেলেন। সবশেষে ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে খোলামেলা ছবি দেখার হিড়িক নিয়ে তিনি বললেন," আসলে আমার মনে এখন সহজ পথে রোজগার করার হিড়িক বেড়েছে। শিক্ষার দাম নেই,তাই এইসব উটকো পথে পয়সা রোজগার চলেছে।"

গ্রীন টি খেতে গিয়ে জিভটা পুড়ে গেল। খেয়াল করিনি যে এই ভ্যাপসা ওয়েদারেও চা'টা এখনও গরমই রয়ে গিয়েছে। সঙ্গে মেয়েটির ঝাঁঝালো উত্তরও অনেকটা ছেঁকা দিয়ে দিল। কলকাতা নিবাসী এক বান্ধবীর কথা মনে পড়ল। তিনিও কলকাতার এক নামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করেছেন। ইদানীং সরকারী চাকরির পড়াশোনায় মনোনিবেশ করেছেন। অবিবাহিতা সেই বছর আঠাশের মেয়েটি জানালেন, " কোভিড পরবর্তী সময় থেকে যেমন চাকরির বাজার কমেছে তেমনি মানুষের মানসিকতারও পরিবর্তন হয়েছে। কেউ কেউ মনে করেছে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশেষ উত্তেজক ছবি দেখিয়ে পয়সা উপার্জন করা সঠিক, তারা তাই করছে। তবে আমার কাছে কোনও কিছুই সহজ নয়। যে খোলামেলা ছবি দেখিয়ে উপার্জন করছে তাকেও অনেক কিছু ঠিক রাখতে হয়। শরীরের গঠন, খাওয়াদাওয়া নিয়ন্ত্রন, ঘন্টার পর ঘন্টা ক্যামেরার সামনে থাকার কায়দা এবং আরও কতকিছু আছে। একটু থেমে তিনি আরও জানালেন, " তবে কত শতাংশ মানুষ এই রাস্তা বেছে নিয়েছেন সেটা আমি জানি না তবে মনে হয় বাঙালি এখনও রক্ষণশীলই আছে।" জিজ্ঞাসা করলাম "আপনি কি যৌনতার ব্যাপারে রক্ষণশীল?" মেয়েটি হাসতে হাসতে উত্তর দিল, " আমি বারবারই একটু ওয়াইল্ড! বিডিএসএম প্রিয়। আমি পেইন আর প্লেসার একসঙ্গে উপভোগ করি। জীবনে ইচ্ছে আছে থ্রিসাম উপভোগ করার।" এরপরেও কি মনে হবে বাঙালি রক্ষণশীল নাকি বেশী রক্ষণশীলতাই কাল হলো? জিজ্ঞাসা করলাম, " যৌনতায় কি বিকৃত মানসিকতা থাকতে পারে?" হাসতে হাসতে তিনি উত্তর দিলেন, " আমি মনে করি না যৌনতায় বিকৃত বলে কিছু আছে! আমি যেমন লুকিয়ে দুজন মানুষের যৌনতা দেখতে ভালবাসি, এক্ষেত্রে কি আমি বিকৃত?" এ বড় কঠিন প্রশ্ন। যদিও এক্ষেত্রে বলাই যায় তিনি বিকৃত তবে তার বিপক্ষেও তো অনেক যুক্তি খাড়া করা যায়। ব্যক্তিস্বাধীনতার তো দাম আছে এখানে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আইনি গ্যাঁড়াকলে না পড়লেই হলো।

রচনার অলঙ্করণ ছবি
রচনার অলঙ্করণ ছবি

দুপুর নেমে এলো দুম করো। ইলিশ আর খিচুড়ি খেয়ে দুপুরে একটা ভাত ঘুম দেবো ভাবছিলাম। তারপরেই মনে হলো একটু এগিয়ে যাওয়া যাক, আরও অজানাকে জেনে নেওয়া যাক। কলকাতা নিবাসী বহুজাতিক সংস্থায় কর্মরত আমার এক অবিবাহিতা বান্ধবীকে ফোন করলাম! লেখার বিষয়বস্তু শুনে সে বেশ গড়গড় করে সব বলে গেল। যেন মুখস্থ বিদ্যে! তবে তিনিও একটু হলে নারীবাদী। তাই মেয়েরা কী করছে কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় কিভাবে পয়সা উপার্জন করছে সেটা নিয়ে সে বেশ স্পষ্ট। তিনি বললেন, " মেয়েরা কিছু করলেই দোষ?" আমি একটু আমতা আমতা করলাম। তিনি থেমে বললেন, " যে যেভাবে ইচ্ছে উপার্জন করছে। কারণ তার সেই পথটা ঠিক মনে হয়েছে।" জিজ্ঞাসা করলাম, " যৌনতা নিয়ে কোনও বিশেষ ফ্যান্টাসি আছে?" হাসতে হাসতে উত্তর এলো, " প্রচুর আছে। যেমন আমি ব্যথা পেতে ভালবাসি। কেউ আমাকে মারছে, হাত পা বেঁধে রেখে যৌনতায় লিপ্ত হচ্ছে সেটা আমার পছন্দ। এনাল সেক্স আমি পছন্দ করি।" ইদানীং অনেকেই বলেছে ব্যথা পেতে তাদের ভাল লাগে। তবে এইসব কালচার আগেও ছিল কিন্তু এই বিংশ শতাব্দীতে কি আমরা এতটাই হীনমন্যতায় ভুগছি যেখানে দাঁড়িয়ে ব্যথা দিয়ে ব্যথা দূর করছি? একটু থেমে আবার বললেন, " আমরা পাবলিক ট্রান্সপোর্টে সেক্স করেছি। বেহালাগামী একটি বাসে আমরা মিলিত হয়েছি। এছাড়াও রেস্টুরেন্টের ওয়াশরুমের স্মৃতি আছে।"

যত কথা বলছি তত বুঝতে পারছি নব প্রজন্মের মধ্যে একটা বিশেষ চাহিদা এসেছে। হয়ত সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে নিজেকে নতুন করে খোঁজার চাহিদা। অথবা আধুনিক ওয়েব সিরিজের যুগে নিজেকে সিনেমার পল্ট ভেবে নেওয়া। কথায় আছে সিনেমার পল্ট আসে বাস্তব থেকে থাকলে বাস্তব আগে নাকি সিনেমা? তর্ক আসতেই পারে। তবে সূক্ষ ভাবে দেখলে বোঝা যাবে একটা শ্রেণীর মানুষ তাদের ব্যক্তিগত জীবন সোশ্যাল মিডিয়ায় এনে উপার্জন করছে। আপাত দৃষ্টিতে আমার খারাপ লাগলেও এটাই সত্যি যে সে উপার্জন করছে আর আমি দর্শক হিসেবে মনোরঞ্জন ছাড়া কিছুই পাচ্ছি না। বিকেল গড়িয়ে এলো, ঝরে পড়া কৃষ্ণচূড়া ভিজল জলে। ঝিরঝিরে বৃষ্টি এখনও আবহমান। কথা হলো সুদূর কুর্গ নিবাসী এক বিবাহিতা বাঙালি মহিলার সঙ্গে। বছর ছত্রিশের এই মহিলা এখন একটি কফি ফার্মের মালকীন। তার কথায়, " জীবনটা উপভোগ করার জিনিস আর যৌনতা তো সেই উপভোগের একটি মাপকাঠি।" তিনি আরও বললেন যে, " আমি আজ অবধি জীবনে একাধিক মানুষের সঙ্গে যৌনতায় লিপ্ত হয়েছি।আমি মূলত একটু ওয়াইল্ড যৌনতার ক্ষেত্রে। একটু বেশী উদ্দীপনা আমি ভালবাসি। কেউ আমার সারা শরীরে কামড় বসাক সেটা আমি চাই। প্রচন্ড ব্যথা চাই!" সেই একই কথা ফিরে ফিরে এলো। ব্যথা দিয়ে ব্যথা তোলার এই প্রক্রিয়া যেন নবাগত। জিজ্ঞাসা করলাম, " আর বিশেষ কিছু?" তিনি ভেবে বললেন, " ওরাল সেক্স আমি ভালবাসি। পুরুষদের সিমেন আমি খেতে ভালবাসি। ওতে প্রচুর প্রোটিন থাকে যা মহিলাদের সৌন্দর্য ধরে রাখতে সাহায্য করে।" তবে এই বিষয় নিয়ে মেডিকেল সায়েন্স কী বলে সেটা লিখতে গেলে রাত কাবার হয়ে যাবে। তবে কারুর ব্যক্তিগত বিশ্বাস ভাঙার আমার ইচ্ছে নেই। তিনি আরও বলে গেলেন। তার সামনে দুজন মানুষ যৌনতায় লিপ্ত এই ঘটনা তিনি দেখতে চান। এতেই তিনি সুখ পান। যেমন তিনি হাইওয়েতে এক পূর্ণিমার রাতে উদ্দাম যৌনতায় লিপ্ত হয়ে ছিলেন সেই গল্প থেকে তার ব্যক্তিগত ডোমিনেশন গল্প তিনি শোনালেন। তবে এত কিছুরI মধ্যেও তিনি একটা কাজের কথা বললেন! অর্থনীতির সঙ্গে যৌনতার নাকি সবসময় একটা যোগাযোগ ছিল এবং থাকবে। ভেঙে বলতে গিয়ে তিনি বললেন, " বেশ্যাবৃত্তি একটা আদিম ব্যবসা ছিল। সেটা এখনও বহাল তবিয়তে চলছে। শুধু তাই নয় এই ব্যবসার সঙ্গে আর অনেকের রুটিরুজি জড়িয়ে আছে। দালাল থেকে ঘর ভাড়া দেওয়া লোকটির, মদের সাপ্লাই দেওয়া থেকে যৌনতার সামগ্রী জোগাড় করে লোকটিরও এইভাবেই পেট চলে।" কথাগুলো খুব একটা মিথ্যা নয়। তবে এই বিংশ শতাব্দীতে এই পুরো প্রসেসটাই আধুনিক হয়েছে।

বাংলা ইন্ডাস্ট্রির একজন প্রথম সারির অভিনেত্রীর সঙ্গে কথা হলো। তিনি তাঁর সবচেয়ে রোমাঞ্চকর যৌনঅভিজ্ঞতার কথায় জানালেন যে, তিনি যখন পাহাড় চূড়ায় তাঁবুর মধ্যে যৌন মিলনে লিপ্ত হয়েছিলেন সেটি তাঁর সবচেয়ে রোমাঞ্চকর মুহূর্ত ছিল। শুধু তাই নয়, গাড়ির মধ্যে যৌন মিলনেও তিনি শিহরিত হয়েছিলেন। একবার বিদেশে গিয়ে একটি রেস্তোরাঁর বাথরুমেও তিনি যৌন মিলন করেছেন বলে জানালেন। জিজ্ঞাসা করলাম," কথায় আছে বাঙালি ছেলেরা নাকি বিছানায় ঠিক যুতের নয়?" তিনি হাসতে হাসতে বললেন," পাঞ্জাবি সবচেয়ে ভাল এমন একটা কথা মার্কেটে খুব চলে, তবে নিজের অভিজ্ঞতায় বলতে গেলে সেটা খুব একটা ভুল নয় কিন্তু পাঞ্জাবিরা বয়ফ্রেন্ড অবধি ঠিক আছে, বর হিসেবে নয়।" ভার্চুয়াল সেক্স নিয়ে তিনি বললেন, " এটি একটি হেলদি প্রসেস।" অর্থাৎ এইটুকু বলতে দ্বিধা নেই যে তিনি নিজেকে এক্সপ্লোর করতে ভালবাসেন। অপর একজন বছর তেইশের রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী জানালেন, তিনি ডেমিসেক্সওয়াল। এই অর্থটা গুগুলে সার্চ করলেই পাওয়া যাবে যে মানুষ তাঁর অপরপক্ষের মানুষের সঙ্গে প্রচন্ডভাবে আত্মিকভাবে যুক্ত, প্রচন্ড ভাবে তাঁদের মধ্যে একটা মনের যোগাযোগ রয়েছে। এই ধরনের মানুষগুলো একমাত্র প্রখর ইমোশনাল বন্ডিং ছাড়া তাঁর অপর পক্ষের মানুষের সঙ্গে যৌনতায় জড়িত হতে পারে না। মেয়েটি আরও জানাল যে, তাঁর সফট বিডিএসএমের প্ৰতি আকর্ষণ আছে। তবে সেটিও ভীষণভাবে পরিস্থিতি ভিত্তিক। তাঁর সবচেয়ে প্রিয় যৌনচারের কথায় তিনি বললেন মিশনারি পজিশন তাঁর প্রিয় কারণ সেখানে তাঁর অপরপক্ষে মানুষের সঙ্গে তাঁর সরাসরি চোখাচুখি হচ্ছে তাই। এহেন বুঝতে অসুবিধা নেই যে কেউ কেউ প্রচন্ডভাবে আত্মিক টান অনুভব করে যা ছাড়া তাদের উত্তেজনা আসে না। ঠিক এই কথার ভিত্তি করে এক বছর তেইশের ছাত্রী যিনি সরকারী চাকরির পরীক্ষা দিচ্ছেনমফঃস্বলের বসবাসকারী বছর একত্রিশের এক চিত্রগ্রাহকের কথায়, " আমি আজ পর্যন্ত বহু সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছি। তাই একটা কথা খুব জোর দিয়ে বলতে পারি বাঙালি সবসময় রক্ষণশীল ছিল, আছে এবং থাকবে। কলকাতার বুকে যতই বিদেশী কালচার শুরু হোক না কেন দিনের শেষে বাঙালি রক্ষণশীল এবং সেন্টিমেন্টাল।" তিনি আরও জানালেন যে," যারা সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে উপার্জন করছে তারা কিন্তু আদেও অতটা বোকা নয়। তাদেরও একটু আধটু পড়াশুনা করতে হয়। খোলামেলা ছবি দেখানো অত সহজ নয়। তার জন্যও হক লাগে। তার জন্যও কিছু বুদ্ধি।খরচ করতে হয়।"

যৌনতার দিনরাত্রি
যৌনতার দিনরাত্রি

ফেসবুক খুললেই দেখি কত কেউ নিজের দিনলিপি ফেসবুকে তুলে ধরছে। কেন রান্না করছে, কেউ বাসন মাজছে, কেন স্নান করছে। একদম পুরস্কার পাওয়ার মতো সব কনটেন্ট। কেউ কেউ এমন পোশাক পরে ভিডিও বানাচ্ছে যা দেখার জন্যই লোকে ভিড় করছে। ইউটিউবে আজব আজব কিছু রান্না করা হচ্ছে যা দেখার জন্য লাখ লাখ দর্শক জড়ো হচ্ছে। যদিও রান্না দেখার জন্য নয় যে রাঁধছে তাকে দেখার জন্য। এই রকম সিউডো কনটেন্ট বানানো হেব্বি চাপের ব্যাপার! শুধু ভাবি মাথায় কত বুদ্ধি থাকলে এইসব বানানো যায়। দিনে দিনে চারিদিকে খাজা কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৈরি হচ্ছে। তারা আবার নিজেদের ইনফ্লুয়েন্সর বলে পরিচিয় দেয়। ইংরেজি বানান দেখলে হোঁচট খে.তে হবে, কিন্তু রিলস বানানোর ব্যাপারে তারা এক নম্বর। সেখান থেকে উপার্জনও তারা মন্দ করছে না। কিন্তু দিনে দিনে আমরা কোথায় যাচ্ছি সেটা বলা মুশকিল।এই তো কিছুদিন আগে খবরে দেখলাম কলকাতার এক দম্পতি তাদের সেক্স টেপ লাইভ স্ট্রিমিং করছে। সেই করে উপার্জনও করছে। এইবার কথা হলো এইরকম কালচার তো কলকাতার বুকে খুব একটা নেই! হাতে গুনে এক দুজন। তবে কলকাতার বাইরে অনেক রাজ্যেই এই কালচার এখন জলভাত। অনেকেই করে খাচ্ছে বা খেয়ে করছে। তা বেশ করছে যা করছে, আমার দৃষ্টি আকর্ষণের বিষয় হলো বাঙালির যৌনতার দিনরাত্রি, অর্থনীতি এবং রক্ষণশীলতা। তবে আমি আর কত দূর এগোতে পারলাম? ওই গুটি কয়েক মানুষের থেকে যেটুকু জেনেছি সেটার ওপর ভিত্তি করে কতটা আর লেখা যায়। তবে একটা ব্যাপার পরিষ্কার এখন উপার্জনের রাস্তা বদলাচ্ছে! মানসিকতার পরিবর্তন হয়েছে। এই কলকাতার উঁচু মহলে কান পাতলে শোনা যায় ওয়াইফ স্পোয়াপিং, থ্রী সাম, বিডিএসএম, এইগুলো একদম জলভাত। তবে শোনা যায়, আমি দেখিনি। শুনেছি মাত্র। তাই বিশ্বাসটা কম। যেমন পিডোফিলিয়া খুব কমন একটা কালচার। মানে বাচ্চাদের প্রতি যৌন ঈর্ষা। কিছু অসর্মথিত সূত্রের অনুসারে, কলকাতার কিছু উচ্চবিত্ত সমাজের মানুষ তাদের যৌন ঈর্ষা পূরণের জন্য বস্তি থেকে বাচ্চাছেলেমেয়েকে তুলে এনে যৌনতা পূরণ করে।

যৌনতার দিনরাত্রি
যৌনতার দিনরাত্রি

এই বিষয়গুলোর সঙ্গে জড়িত আইনগুলো বেশ গ্যাঁড়াকলের। লেখক তথা আইনজীবী প্রসেনজিৎ দাশগুপ্তের কথায়, ''চাইলেই তোমার খোলোমেলা ছবি দেখাতেই পারো তবে যে প্ল্যাটফর্মে দেখাচ্ছ সেখানে কোনও বাঁধা না থাকলেই হলো। তবে এই দেশে কিন্তু এই ব্যাপারগুলো এখনও বৈধ নয়। আইনের আওতায় পড়ে।" তবে এই প্রসঙ্গে বা সাইবার ক্রাইমের বিভিন্ন বিষয় প্রসঙ্গে প্রনীত আইনগুলো আরও বিশদ হওয়া প্রয়োজন। তা ছাড়া এই আইনগুলো বলবৎ করতে যে কাঠামো প্রয়োজন সেটা যথেষ্ট নয়। ব্যাপারটা ভাবতে যতটা সোজা লাগছে ব্যাপারটা ততটা সোজা নয়। মানে ধরুন আপনি আপনার বান্ধবীর সঙ্গে কোনও রুমে গিয়েছেন সেখানে আপনারা যদি প্রাপ্তবয়স্ক হোন এবং দুজনের যদি সহমত থাকে এবং রুম মালিকের যদি অনুমতি থাকে তাহলে কোনও আইন আপনাকে আটকাতে পারে না। ঠিক তেমনি আপনি যদি সেখানে এমন কাউকে নিয়ে যান যেটা তার পেশা তখন সেটা আবার আইনের আওতায় পরবে কিছু শর্তসাপেক্ষে যেমন আইনি উপায়ে প্রমান করতে হবে যে যৌনকর্মীটি আপনাকে প্রকাশ্য স্থানে দেহব্যবসার প্রস্তাব দিয়েছে। আবার ধরুন আপনি একটি ঘর বুক করে সেখানে নুড ছবি শ্যুট করেন এবং পুরো বিষয়টা যদি লিখিত থাকে যে আপনার সহমত আছে তাহলে সেটা আর্টের মধ্যে পড়ে এবং সেখানে কারুর কিছু বলার থাকে না। মধ্যকথা প্রাইভেট সেক্স বৈধ কিন্তু পাবলিক সেক্স অবৈধ। এবার কোনটা প্রাইভেট আর কোনটা পাবলিক সেটা বিবেচ্য বিষয়। তবে আইন যেমনি আছে তার প্যাঁচও সেখানে থাকে। তার উপর আইন তো কিছু আর দেখতে পায় না তাকে জানাতে হয়।তাই ওই ওয়েব প্ল্যাটফর্মগুলো আইনবিরুদ্ধ কাজ করছে কিনা তা নালিশ জানানোর পরই দেখা যাবে। সব কিছু অত ভেঙে একটা লেখায় লেখা সম্ভব নয়। একটা লেখার মাধ্যমে বাঙালির যৌনতার আচার আচরণ বোঝা সম্ভব নয়। উপার্জনের রাস্তাও বদলেছে তা বলে সবাই যে সোশ্যাল মিডিয়াকে ঘরবাড়ি বানিয়ে নিয়েছে এমনটা নয়। ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলফ সার্ভের রিপোর্ট অনুসারে মহিলাদের একের বেশী পুরুষ শয্যাসঙ্গী থাকে। যদিও এটার মানে কেউ খারাপ নয় কিংবা ভাল নয়। বিষয়টা সার্ভে ভিত্তিক এবং কোন কোন রাজ্যের ওপরে করা হয়েছে সেটাও দেখার দরকার আছে। হেডলাইন পড়ে উত্তেজিত হওয়ার কিছু নেই। যা দেখি তার কতটা সত্যি সেটাও বলাই বাহুল্য বিষয়। তেমনি যতটা শুনছি সেটাও যে খুব ঠিক তেমনটা নয়।তবে চিরকাল সামাজিক রীতিনীতি যৌনতার ওপর প্রত্যক্ষ ভাবে একটা প্রভাব ফেলেছে। বিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে এই কথাটা বলা খুব কঠিন নয় যে যৌনতার প্রতি বাঙালির মানসিকতা পরিবর্তন হয়েছে, তবে সেটা ভাল নাকি মন্দ সেটা বিচার করতে এই লেখা নয়। উপরন্তু এই ব্যাপারগুলোর পিছনে এখনও যে 'ট্যাবু' আছে সেটা ভাঙার এবং এই বিষয়গুলোর সঙ্গে আদ্যপান্ত একটা অর্থনীতির যোগাযোগ তৈরি হচ্ছে সেটা তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। যেমন সেই কলকাতার বাইরে থাকা বছর পঁচিশের মেয়েটিকে জিজ্ঞাসা করলাম, " শিল্পের কোনও কাজের জন্য সে শরীর প্রদর্শন করতে পারবে?" সে প্রথমে একটু ভাবল। তারপরে আমতা আমতা করে না বলল। আমি আবারও বললাম, " ধরো, কেউ তোমার একটি ছবি আঁকবে, যেখানে তোমার মুখ দেখা যাচ্ছে না। অথবা তোমার ওপর কেউ এমন একটা গল্প লিখছে যেটা প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য এবং যেখানে তোমাকে একটা পারিশ্রমিক দেওয়া হবে। সেখানেও কি তুমি না বলবে?" তিনি আবার ভাবলেন, তারপরে বললেন, " মনে হয় না।" এই ভাবনার পিছনে কি অর্থ কিছুটা হলেও ভাবাল? প্রাচীন যুগ থেকে শিল্পের জন্য নারী শরীর ব্যবহার হয়েছে, এটা এমন কিছু নতুন নয়। তবে এই মুঠোফোনের দুনিয়ায় শো অফ বেড়েছে। বেড়েছে সহজে টাকা উপায়ের রাস্তা। স্টেটাস মেন্টেন্ট না করতে পারলেই সমস্যা! উঁচু উঁচু বাড়ির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নতুন রুচি। 'স্যাগি' জার্নালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায় অবিবাহিত উচ্চশিক্ষিত মহিলাদের, যারা মূলত বিলাসবহুল আবাসনে থাকে তারা বিয়ের আগে একাধিক শয্যাসঙ্গী পছন্দ করেন। ২০২০ সালে প্রকাশিত এই প্রতিবেদন বর্তমান যুগে কতটা বেড়েছে কিংবা কমেছে সেটা বিবেচনা সাপেক্ষ। ঠিক তেমনি অন্য একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে ২০২০ সালের পর থেকে সেক্সটয়-এর বিক্রি ৬৫% বেড়ে গিয়েছে।

যৌনতার দিনরাত্রি
যৌনতার দিনরাত্রি

মূলত কোভিডের পরবর্তী সময়ে। কিছু অসমর্থিত সূত্রের দাবি কিছু মানুষ এক ঘেয়েমি থেকে মুক্ত হতে এমনটা আবার অনেকের দাবি কিছু মানুষ একসঙ্গে থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে এই সমস্ত খেলনা পুতুলের সহায়তা নিয়েছেন। ইনসাইডার বিজনেস নামক একটি সংস্থার সার্ভের মতে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে সবচেয়ে বেশী দেখা যায় ব্যাঙ্গালোরে। তারপরে মুম্বই এবং কলকাতা। ২০২০ সালের এই সার্ভের ভিত্তিতে বলা যেতেই পারে টায়ার ১ শহরে এইধরনের প্রবণতা বেশি দেখা যায়। অর্থাৎ যে সমস্ত শহরের জনসংখ্যা বেশী এবং আধুনিক সেইসমস্ত শহরকে এই টায়ার ১ শ্রেণীর তকমা দেওয়া যেতে পারে। পরিচিত এক মহিলা নাট্যকর্মীর সঙ্গে এই বিষয়ে কথা হচ্ছিল।বছর ছাব্বিশের নাট্যকর্মী বললেন, " একজনের বুদ্ধি আমাকে যৌন উদ্দীপনা প্রদান করে। মানে আমি সেপিওসেক্সওয়াল।" আবার আর এক পরিচিত ছেলে বন্ধু জানাল, " তার থ্রী সাম করার খুব ইচ্ছে। বিশেষত সে আর তার পার্টনার ছাড়া একজন রাশিয়ান মেয়ে থাকবে তাদের মাঝে যার হাতে ট্যাটু থাকবে।" এইরকম ফ্যান্টাসি ছেলেদের মধ্যে হরদম থাকে। অন্তত আমি যে কজন ছেলেদের সঙ্গে কথা বলেছি তাদের প্রায় একই রকম মতামত। তবে আধুনিক যুগে আমরা শোভাবর্ধন করতে করতে এমন জায়গায় চলে গেছি যেখানে আমরা আমাদের যৌনতা বিক্রি করতেও পিছপা হচ্ছি না। যদিও এই বাংলায় প্রথম নীল ছবি তৈরি হয়েছিল ১৯৩০ সালে। বাংলার প্রথম সেক্স ম্যাগাজিন ছাপানো হয়েছিল ১৮৪৯ সালের দিকে, সংবাদ রসরাজ। এইগুলোর উল্লেখ এই কারণেই করছি যে অনেকেই বলতে পারেন এইসব কালচার তো এই সেদিনের আমদানি কিংবা এগুলো তো বিদেশী কালচার। তবে তেমনটা কিন্তু নয়। এই বাংলায় এমন অনেক কিছুই আছে যা আমাদের অজানা। তবে মধ্যবিত্ত বাঙালি কিন্তু তাদের ব্যক্তিগত জীবন সোশ্যাল মিডিয়ার তুলে ধরতে একটুও পিছপা হচ্ছে না। কিন্তু প্রশ্ন কেন? ভাল থাকার জন্য? নাকি আধুনিক জীবন যাত্রার

খুচরো ফ্যান্টাসি মেটানোর জন্য? মানে আপনার পাশের বাড়ির লোকটার আইফোন আছে অথচ আপনার নেই। যে করে হোক কিনতেই হবে, সেই জন্যই আপনি সমস্ত রক্ষণশীলতা ভেঙে হুট করে খোলামেলা ছবি আপলোড করে বসলেন! না এমনটা মোটেও ঘটছে না। যেটা ঘটছে একটি উচ্চবিত্ত সম্প্রদায়ের মানুষ আরও পয়সা এবং বিলাসিতার জন্য এমন একটি মাধ্যম ব্যবহার করছে যেখানে সহজেই শরীর প্রদর্শন করেই অর্থ উপার্জনের রাস্তা তৈরি হচ্ছে। মধ্যবিত্ত শ্রেণী এইগুলো দেখছে, উপভোগ করছে। তবে সাহস করে শরীর প্রদর্শন করতে পারছে না। আর যারা যারা করছে তারা একটা সময় অবধি নির্ভয়ে থাকলেও শেষটা ঘেঁটে ফেলছে। মানে ভয়ের চোটে প্রোফাইলটাই ডিলিট করে ফেলছে। সামাজিক ভয়! লোকে কী বলবে এই ভয়? আবার পাশাপাশি পাশের বাড়ির মেয়েটা মাসে দুবার থাইল্যান্ড যাচ্ছে অথচ আমাদের মেয়েটা কলকাতা যেতে পারছে না, এমনও ভয় মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে কুঁড়েকুঁড়ে খাচ্ছে।ভার্চুয়াল সেক্স এই দেশে বেড়েছে। নেটমাধ্যমে টাকা উপায়ের সোজা রাস্তা কিন্তু সেক্স। অন্তত কিছু সার্ভের রিপোর্ট তাই বলে। অনলাইন এডাল্ট সাইটে নিজেদের যৌনদৃশ্য দেখানোর সংখ্যা বাড়ছে। অনেকেই এই বিষয়টাকে সাইড ইনকামের রাস্তা ভেবে নিয়েছে। সাইড ইনকাম কি এই বাজারে জরুরী? হ্যাঁ, একেবারেই জরুরী। দৈনন্দিক জীবনযাত্রা যেভাবে এগোচ্ছে, জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে সেইদিকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে গেলে হয়ত নিশ্চয় জরুরী। কোভিদের পর থেকেই চাকরির বাজারে মন্দা। নিশ্চিত উপার্জনের খোঁজে নেই অনেকেরই। তাই একটা শ্রেণীর মানুষ এই পথ বেছে নিয়েছে। এই মুহূর্তে এক বাঙালি নীল ছবির তারকা সঙ্গে কথা হলো বেশ অনেক্ষণ। তার ভিডিও হয়ত আমি আপনি অনেকেই দেখেছেন অথবা দেখবেন। তিনি সরাসরি একটা কথা বললেন, " সবাই কিন্তু টাকার জন্য এই পথে আসে না!" ভাবতে হবে। ভাবা প্র্যাকটিস করতে হবে। তাই বাঙালি এবং তার যৌনতার রীতিনীতি নিয়ে চর্চা চলবেই, এটা একটা বিরাট প্রসেস। চলবে, চলছে। রাত নেমে এলো। বৃষ্টিও ধরে এলো। ভ্যাপসা গরম একটু কমল তবে যেটা রয়ে গেল, সেটা তোমার আদরের দাগ আর ভালবাসা। ঝরে পড়া কৃষ্ণচূড়া মাড়িয়ে দিয়ে গেল আরও একটা দিন, যেখানে তুমি নেই। প্রেম নেই। যৌনতা নেই। শুধু স্মৃতি আছে অফুরান।

ট্যাগসূচী:#sex#fantasies#reasearch#dailylife
লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন:
আদিত্য ঘোষ

আদিত্য ঘোষ

লিখতে চাওয়ার অঙ্গীকার

পাঠকের মন্তব্য (0)

মন্তব্য করার জন্য আপনার সোশাল অ্যাকাউন্ট বা অতিথি মাধ্যম বেছে নিন:

Anay Biswas
Architected & Engineered byAnay BiswasFull-Stack Dev