মেঘনার জল তখন দুকূল ভাসিয়ে বয়ে চলেছে। রাজীবের মনে পড়ে বারো বছর আগের সেই বিকেলের কথা। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে আমিনা তাকে বলেছিল, "শহর তোমাকে হয়তো অনেক কিছু দেবে রাজীব, কিন্তু নদীর এই শান্ত জল আর কাশফুলের সুবাস কি কোথাও পাবে?"
নদী ও কাঁচের শহর (ধারাভিত্তিক উপন্যাস - পর্ব ২: স্মৃতির খেয়াঘাট)
পুরনো স্মৃতির ভাঁজ খুলে যখন অতীত কথা বলে ওঠে

আদিত্য ঘোষ
শব্দের খেয়ায় সময়ের নদী পারাপার
১৫ মে, ২০২৪ • ১০ মিনিট পাঠ
১৪ তলার ফ্ল্যাটে দাঁড়িয়ে রাজীব কাঁচের জানালার পর্দাটা টেনে দিল। বাইরে তুমুল বৃষ্টি নামছে। ঢাকার শহরের এই বৃষ্টিতে মাটির গন্ধ নেই, কেবল অ্যাসফল্টের সোঁদা ধোঁয়া। কিন্তু বুকের ভেতর যে নদীটা সে এতদিন লুকিয়ে রেখেছিল, আজ সেখানে জোয়ার এসেছে। মেসেজের ছবিটা সে আবার দেখল—সেই চেনা প্রদীপ, সেই বাঁশঝাড়ের ছায়া।
পরদিন সকালে তাকে রওনা হতে হবে। অফিস, মিটিং, কর্পোরেট ব্যস্ততা—সবকিছু যেন এক লহমায় তুচ্ছ হয়ে গেল। কাঁচের শহর তাকে অর্থ দিয়েছে, কিন্তু হৃদয়টাকে শুষে নিয়েছে মরুভূমির মতো। এখন সময় ফেরার, শব্দের খেয়ায় চড়ে শেকড়ের ঠিকানায় ফিরে যাওয়ার।

আদিত্য ঘোষ
শব্দের খেয়ায় সময়ের নদী পারাপার
সমকালীন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম অগ্রগণ্য কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক। তাঁর লেখনীতে মেঠো রূপসী বাংলা, মানবজীবনের গূঢ় দর্শন ও মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা অনন্য মহিমায় ফুটে ওঠে।

