মধ্যরাতে তুলে নিয়ে যায় কারা?
আমি তখন সাদা বরফ মেখে, সদ্য ফিরেছি শ্মশান যাত্রা থেকে
আদিত্য ঘোষ
১৫ আগস্ট, ২০২৬ • ৫ মিনিট পাঠ

মধ্যরাতে তুলে নিয়ে যায় কারা?মধ্যরাতে তুলে নিয়ে যায় কারা ?আমি তখন সাদা বরফ মেখে,সদ্য ফিরেছি শ্মশান যাত্রা থেকে।সারা শরীর জুড়ে দুর্দিনের ক্লান্তিমনের ভিতরে জমা হয়েছে ক্ষত,একটু একটু করে ফুঁড়ে উঠেছে,শ্রাদ্ধের আবেশ, ঘ্রাণ আর আসক্তি।সারা রাস্তা জুড়ে কুকুর ডাকে রাতেওরা আমায় তুলে নিয়ে যায় তখনতখনও গায়ে আগুনের উষ্ণতা, পাটকাঠির গন্ধসদ্য স্নান সেরে আসা বালিকার মতো স্নিগ্ধ,ওরা আমায় নিয়ে যায় শূন্যেএই শহরের ভিতরে আরেকটা শহর থাকে।অবিন্যস্ত, খোঁড়া, হাহাকার ভরা জীবননর্দমার মতো সরু সরু ভোর,দুর্গন্ধে মাখা প্রথম আলো।ধুকপুক বুকে বাজে বেঁচে থাকার মাদলওরাও তো বেঁচে আছে রোজ,এই শহরের ভিতরে একটা অন্য শহর থাকে।ওরা আমার নিয়ে যায় রোজ,চোখ বেঁধে নিয়ে যায় মসজিদের পাশ দিয়েযেতে যেতে চিনে গিয়েছি, কুর্বানের আর্তনাদএই পথের পরেই ভেসে আসে লাশকাটা ঘরকারা যেন ছুটে যায় রোজ,রোদ ভাঙা মেঘের খোঁজেকারা যেন কান্নায় ভিজে যায়,ভেসে আসে গোঙানির ধ্বনি।রেলগাড়ি ছুটে যায়, লাইনে কাটা পড়ে লাশকাটা পড়ে স্বপ্ন, ইচ্ছে, আর জিজ্ঞাসা।ওরা আমার নিয়ে যায় রোজবাগান পেরিয়ে আসে মহাশূন্যের দলশ্মশান ফিরতি পথে ওরা নিয়ে যায় আমায়আমি দাঁড়িয়ে থাকি নির্বাকের মতোআমি দাঁড়িয়ে থাকি নিত্যযাত্রীর মতো।ওরা নিয়ে যায়, এই শহরের তলায়ওরা নিয়ে যায় বহুতল বিলাসীর পাশেএঁটো খেয়ে বেঁচে থাকা একরত্তিডাস্টবিন থেকে তুলে আনা উচ্ছিষ্টরাজনীতির ফ্লেক্সে ঘুমানো পরিবার।আমি প্রতিদিন দাঁড়ায় চুল্লীর সামনেপ্রতিদিন পুড়িয়ে ফিরি জঞ্জাল, শৈশব, যৌবনএকটু ঘুমাবো বলে, সাদা বরফ মাখি।ঠিক তখন ওরা আসে, নিয়ে যায় রোজদিনের আলো আসার আগে,আজানের শব্দ ভাসার আগেআবার ফিরিয়ে দিয়ে যায় আমায়।আমি ফিরি, আমার বিছিনায়।তবুও মনের ভিতরে,বুকের ভিতরে রয়ে যায় অন্য একটা শহর।কলকাতার মতো, তবুও কলকাতা নয়।জীবনের মতো, তবুও জীবন নয়।ঝাঁ চকচকে মেহফিলের পাশেওরা বেঁচে থাকে।একটা দেশ হয়ে।
আদিত্য ঘোষ
লিখতে চাওয়ার অঙ্গীকার

