দেবাঞ্জলি
ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত বুকে, চাকরি নেই কলকাতায় প্রতিদিনের জীবন কাটে হতাশা আর শূন্যতায়
আদিত্য ঘোষ
১৩ আগস্ট, ২০২৬ • ৫ মিনিট পাঠ

দু’একটা ফড়িং পোষা, বুকের খাঁজে দার্জিলিং
তোমার বুকে ফড়িং থাকে, তোমার খাঁজে মেঠো সুখজড়িয়ে নিও গভীর রাতে, উদাস হওয়া ক্লান্ত বুক।সাক্ষী থাকুক এই মেঘ, ক্যাফেটেরিয়ার একটু পাশেতোমার হাতে হাত রাখা, হাঁটতে পেরেছি তোমার সাথে।
ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত বুকে, চাকরি নেই কলকাতায়প্রতিদিনের জীবন কাটে হতাশা আর শূন্যতায়তখন আমার উদাস বুকে, জীবন মানে শুধুই গ্লানিরঙিন জলে জিভ ভিজিয়ে, মিথ্যে সুখের হাতছানি।
মায়ের তখন অনেক অসুখ, খরচ ছিল আকাশছোঁয়ামনের ভিতর শিশির জমে, দু’চোখ জুড়ে শুধুই ধোঁয়াবাবা ভাবত সকাল হলে, কোথায় আরও বাড়বে ঋণরোদে ভেজা শহর জানে, কুঁকড়ে ওঠা ক্লান্ত দিন।
আমরা দু’জন দুটি দেশে, দুটি জীবন, অবশেষেকোথায় গেল,নিঝুম রাতের, নির্জনতার নিরুদ্দেশে?কোথায় গেল, প্রথম দেখা, স্তব্ধ বুকের অলিগলি,কোথায় গেল ,সেই মেয়েটা, ফড়িং পোষা দেবাঞ্জলি?
গুঁড়ো গুঁড়ো মেঘ ভাসে, দুটো দেশে, দুটো আকাশেকেমন আছে সেই ছেলেটা? দিনবদলের অবকাশেএখনও সে হেঁটে আসে, তোমার বাড়ি, তোমার পথে?ফড়িং রাখে বুকপকেটে, ভাল থাকার অজুহাতে!
কেমন আছো, কোথায় আছো, আদুরে রোদের সহবাসেকেমন আছে, সেই ছেলেটা?এখনও কি সে ভালবাসে?তুমি গিয়েছ মেঘ ছিঁড়ে, জীবন হয়েছে অফুরানআবার কি তবে দেখা হবে? হবে আবার রৌদ্রস্নান?
বাগান পেরোনো জীবন এখন, আজান শোনা অভ্যেসতুমি তো এখন যাযাবর, তোমার এখন অন্য দেশএইভাবেই বেঁচে থাকি, বেঁচে থাকার গল্প বলিএকটা মেয়ে হারিয়ে গেল, ফড়িং পোষা দেবাঞ্জলি।
আদিত্য ঘোষ
লিখতে চাওয়ার অঙ্গীকার

