বিকেলের সোনাঝরা আলো যখন কাশের বনে এসে পড়ে, তখন নদীর ওপারের খেয়াঘাটটায় শিউলি ফুলের মতো নিরবতা নেমে আসে। আমিনা তখন বাঁশঝাড়ের ছায়ায় দাঁড়িয়ে দূর দিগন্তের দিকে তাকিয়ে থাকে। তার হাতের মাটির তৈরি ছোট পুতুলটার গায়ে জমেছে মেঘের ছায়া।

প্রথম দৃশ্য: নদীর ওপার

নদীর জল তখন কাঁচের মতো স্বচ্ছ। ওপার থেকে একটা খেয়ানৌকো ধীরে ধীরে ছেড়ে এল। মাঝি অলস ভঙ্গিতে বইঠা বাইছে। দূর থেকে ভেসে আসছে ভাটিয়ালি সুরের মৃদু আবেশ। আমিনা জানে, এই নৌকোয় আজ কেউ আসবে না। তবু সে প্রতিদিন বিকেলে এই ঘাটটায় এসে দাঁড়ায়।

"অপেক্ষা মানুষের এক গভীর উপাসনা। নদীর ধারে দাঁড়িয়ে থাকার মাঝেই ছড়িয়ে থাকে জীবনের হাজারো না-বলা ছন্দ।"

দ্বিতীয় দৃশ্য: শব্দের খেয়া

বাতাসটা হঠাৎ একটু জোর হলো। ঝরে পড়ল কতগুলো শুকনো কদম পাতা। নদীর জলে ছোট ছোট ঢেউ এসে আমিনার পা ছুঁয়ে গেল। সে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে রূপালি ফিতের মতো আঁকাবাঁকা পথ ধরে বাড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করল। ঠিক তখনই পেছনে কার যেন পায়ের শব্দ পাওয়া গেল...

যে গল্পটি শেষ হতে পারত কেবল এক বিষণ্ণ অপরাহ্নে, তা শেষ পর্যন্ত রূপ নিল এক অনন্ত অপেক্ষার মাহাত্ম্যে।