বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আদিত্য
আদিত্য
সকল গল্প ও রচনায় ফিরে যান
হিজিবিজি

যে দুপুরটা রোদের আদর মেখে লিখব ভেবেছিলাম সেই সময়টা হঠাৎ পালিয়ে গেছে নিরুদ্দেশ

ছোটবেলাগুলো ফিরে ফিরে আসে। ফিরে আসে বিকেল হলেই আমার মাঠে খেলতে যাওয়া।

আদিত্য ঘোষ

আদিত্য ঘোষ

১৪ আগস্ট, ২০২৬৫ মিনিট পাঠ

যে দুপুরটা রোদের আদর মেখে লিখব ভেবেছিলাম সেই সময়টা হঠাৎ পালিয়ে গেছে নিরুদ্দেশ
|স্মৃতির শৈশব

প্রিয় শৈশব,
এই শীতে তোমাকে ফিরে পাবো সেটা ভাবিনি। ভাবিনি হঠাৎ করে এসে দাঁড়াবে আমাদের পরিচিত ক্যাফেটেরিয়াতে। সেই গলি দিয়ে চুপিসারে হেঁটে এসেছো আবার, পায়ে স্নিকার্স। মুখে হাসি। গায়ে সবজে রঙের জ্যাকেট। কত তাড়াতাড়ি তোমাকে আবার সেই আলোয় দেখতে পেলাম, সেই মরা আলোর সিম্ফনি যে এত সহজেই আবার বেজে উঠবে কে জানত, কে জানত আমাদের কথা দেওয়া কথাগুলো ঝালিয়ে নিতে হবে খুব তাড়াতাড়ি। ভেবেছিলাম কত কত বছর বাদে তোমায় আবার দেখতে পাবো! মনে হয়েছিল সেদিন চিনতে পারবে তো? কিন্তু সে সব গল্পেই থেকে গিয়েছে। আমার রূপকথায় জল ঢেলে দিয়েছে অন্য এক রূপকথা। শৈশবের খোলস ছেড়ে বেড়ে উঠেছি। ঠিক যেমন বাবাকে দাহ করে নভেম্বর মাসের শেষে স্নান সেরে গঙ্গা থেকে উঠে এসেছি।

মনে হচ্ছিল একধাপে হঠাৎ যেন বড় হয়ে গেছি। লিখে সে কথা বোঝাতে পারব না। ঠিক যেমন বাবাকে কোনওদিন জড়িয়ে না ধরার দুঃখ বোঝাতে পারব না। ঠিক তেমনি তুমি এত কাছে থেকেও তোমাকে ছুঁতে না পারার কষ্ট বলতে পারব না। কী অদ্ভুত যন্ত্রনা। চোখ দিয়ে জলও পড়বে না অথচ ভেতরটা ধীরে ধীরে কুঁকড়ে যাবে। চাইলেও কাঁদতে পারব না।বাংলা ব্যান্ড জেমসের একটি বহুল প্রচলিত গান 'বাবা', তুমি যতদিন বেঁচে ছিলে ততদিন গানটা শুনতে ভয় পেতাম। সত্যি বলছি। আসলে গানটা শুনলে মনে হতো এই বুঝি তোমার আয়ু কমে যাবে। গানটা শুনলে মনে হতো এই বুঝি তোমার নামের আগে চন্দ্রবিন্দু বসে যাবে। আজ যখন লিখতে বসেছি তখন সেটাই হয়েছে। তোমার নামের আগে 'লেট' বসে গিয়েছে। এতদিনে প্রচুর অফিসিয়াল কাজ করতে গিয়ে নির্দ্বিধায় তোমার নামের আগে 'লেট' বলে একটা শিক্ষীয় সম্মান দিতে চেষ্টা করেছি। কিন্তু তাতে কী হয়েছে? তুমি তো আর ফিরবে না। অসম্ভব গম্ভীর অথচ মোলায়েম সুরে আর ফোনের ওপার থেকে তোমার গলা শুনতে পাব না। তোমার নম্বর আর বেজে উঠবে না অবসরে। কী আশ্চর্য তোমার চলে যাওয়া। কী নিদারুণ এই শীত। অদ্ভুত একটা রোদের মায়া আছে এইসব দুপুরে। প্রচন্ড মোলায়েম লাগে। দিব্যি বড় হয়ে আসা শৈশব এখন ছোট হয়ে গেছে, ক্ষুদ্র হয়ে গেছে আদুরে বিকেলগুলো। যে সময়টা ক্রিকেট ব্যাট হাতে কাটিয়েছি, এখন সেই সময়টাই মোবাইল দখল করে নিয়েছে। সাবিরের বিরিয়ানির প্রতি তোমার অমোঘ ভালবাসা ছিল। বলতে সাবিরের বিরিয়ানি খাওয়ার গল্প। কিন্তু হঠাৎ যে সেইসব এক নিমেষে অতীত হয়ে যাবে কে জানত। কে জানত তোমার সাজানো ঘরের মায়া তুমি এক নিমেষে কাটিয়ে দেবে, সরিয়ে দেবে সমস্ত আদর, আবদার, আকাঙ্খা।

এই সব শীতে ছোটবেলাগুলো ফিরে ফিরে আসে। ফিরে আসে বিকেল হলেই আমার মাঠে খেলতে যাওয়া। বাড়ি থেকে একটু দূরেই একটা মাঠ ছিল, চড়কতলার মাঠ। বাবার হাত ধরেই সেই মাঠে যাওয়া। চুটিয়ে ক্রিকেট খেলা। মনে পড়ে ঘামে ভেজা গরমের বিকেল, শীতের শিশির ভেজা বল, ড্রেনে বল হারিয়ে যাওয়ার স্মৃতি থেকে বাঁ হাত ব্যাট হাঁকিয়ে ছয় মারার তৃপ্তি। সব কিছুরই ভাগীদার তুমি ছিলে। ক্রিকেট ভালবাসার পিছনে তোমার একটা প্রচ্ছন্ন অবদান ছিল। তোমার উচ্চতার মতো দীর্ঘস্থায়ী এবং সবল চেহারার একটা লোক কত সহজে চলে যেতে পারে, ভাবলেই মনের ভিতরটা কেমন একটা হয়। লিখে বোঝাতে পারব না।

ইদানীং সময়গুলো ছোট হয়ে আসছে। যে দুপুরটা রোদের আদর মেখে লিখব ভেবেছিলাম সেই সময়টা হঠাৎ পালিয়ে গেছে নিরুদ্দেশ। আমি ধীর পায়ে এক একটা সিঁড়ি ভেঙে উপরে উঠে আসছি। যতটা উপরে ওঠা যেতে পারে। তুমি চলে যাওয়ার পরে আমাদের প্রতিদিনের রুটিন বদলে গিয়েছে। তোমার মতো পরিপাটি করে বিছানার চাদর পাল্টানো থেকে টাটকা সবজির বাজার, সবকিছুতেই তুমি ছিলে ওস্তাদ লোক। আমার ছোটবেলায় যেটুকু রোদ ছিল, সেই রোদের সূর্য ছিলে তুমি। বাঙালির ছেলে হয়ে কোনওদিনই ইংরেজি মিডিয়ামে পড়ানোর কথা ভাবোনি। না আমাকে না দিদিকে। চিরকাল ছিমছাম রাখতে চেয়েছো। কোনওদিন লিখিত সীমা ভাঙতে চাওনি। কখনই প্রথা ভাঙতে চাওনি। তোমার মধ্যে একটা ভয় ছিল যা ভয়কেও ভয় পেত। অসম্ভব সুন্দর একটা গাম্ভীর্য ছিল যেখানে প্রাণ ছিল অফুরান।

তখন আমি আট কিংবা নয়। ওই সময়ের ঘটনাগুলো খেয়াল আছে বলেই লেখছি। প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছে। শ্বাসকষ্ট আমার দোসর ছিল ছোট থেকেই। যখন আমার ছয় মাস বয়স। তবে ওই ঘটনাটা কেন জানি না আজও মনে আছে, সময়টা ভোটের। তোমার তখন ভোটের ডিউটি আসত, প্রিসাইডিং অফিসার। প্রচন্ড চাপ থাকত। ঠিক এইরকম একটা সময়ে মধ্যরাতে আমার হাঁপের টান উঠল। মারাত্মক শ্বাসকষ্ট। ঘুমতে পারছি না। তুমি পাশের খাট থেকে মশারি ছেড়ে নেমে এলে। মাথার কাছে এসে দাঁড়ালে। তখনও মোবাইল আসেনি। ডাক্তারকে ফোন করারও উপায় নেই। আমি তখন ডাক্তার সুব্রত দাসের পেশেন্ট। খাবার এবং ধূলো এই দুই ছিল আমায় শ্বাসকষ্টের যম। শ্বাসকষ্টের সঙ্গে দোসর হতো এলার্জি। সারা গায়ে চাকা চাকা গোল হয়ে যেত। অসম্ভব কষ্ট হতো। বমি হতো। কিছু খেলেই বেরিয়ে যেত। সেই রাতেও এমন সব ঘটনাগুলো ঘটেছিল। তোমার পরেরদিন ভোটের ডিউটি। অনেক দূরে যাবে। কিন্তু সেই রাতে আমার ভয়ংকর অবস্থা। একদিকে হাঁপের টান অন্যদিকে বমি। যতবার বমি করছি তুমি ততবার সেটা পরিষ্কার করে দিচ্ছ। কোনও রাগ নেই, অভিযোগ নেই, কিচ্ছু নেই। যে বিছানায় শুচ্ছি সেখানেই বমি হয়ে যাচ্ছে। তবুও তুমি হাল ছাড়ার পাত্র নও। সেইরাতে যে কীভাবে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওষুধ নিয়ে এসেছিলে সেটা তুমিই জানো। হয়ত এই জন্যই তুমি বাবা।

ছিটকে আসা এই রোদে আমার শৈশব শেষ হয়ে গেছে। তুমি চলে যাওয়ার পরে আমি সাবালক হয়ে উঠেছি। গলির মোড়ে দাঁড়িয়ে যে প্রেমটা অসম্পূর্ণ রেখে এসেছিলাম সেই প্রেমটাও ফিরে এসেছে। ফিরে এসেছে মেঘ রোদের দিনরাত্রি। যে শান্তিটুকু অনায়াসে নিয়ে ঘুমোতে যেতাম, সেইখানে এখন অস্থিরতা, সেইখানে এখন ভয়। হঠাৎ করে বড় হয়ে ওঠার মধ্যে যেমনি আদর মাখা থাকে ঠিক তেমনি দায়িত্ব লেপ্টে থাকে। বিশ্বাস না করলেও এত সহজেই বিশ্বাস করতে হয় সময়কে। তুমি চলে যাওয়াটা এখনও একটা রূপকথার গল্পের মতো, একদম ঘুম ভাঙলেই যেটা শেষ হয়ে যায়। কতবার ভোরে কত দুঃস্বপ্ন দেখেছি, তারপর দুরুদুরু বুকে ঘুম ভেঙে উঠে মনে হয়েছে এটা কী দেখলাম? স্বপ্নই তো? তারপর চারপাশ ঘেঁটে যখন বুঝছি বাস্তব তখন ঘোর কেটেছে। কিন্তু তুমি চলে যাওয়ার পরের দিন যখন ঘুম ভেঙেছে, তখন বারবার মনকে বলেছি ঘোরটা যেন কেটে যায়। কিন্তু কাটেনি। তুমি ফিরে আসোনি। এই শীতে শোকাতুর না হয়ে সাবলীল হয়েছি। শৈশবের খোলস ছেড়ে বেড়িয়ে এসেছি। বড় হয়ে উঠেছি।

তখন রাত একটা। নম্ভেম্বরের শেষ দিক। ঠান্ডা পড়েছে অল্পস্বল্প। গঙ্গার ঘাটে কেউ নেই। তুমি তখন মহাশূন্যে বিলীন হয়ে গিয়েছো। সেই ছাই গঙ্গায় ভাসিয়ে স্নান সেরে কাঁপতে কাঁপতে উঠে আসতে আসতে মনে হচ্ছিল, এটা একটা গল্পের প্লট। এটা স্ক্রিপ্টেড। তবুও সেই গল্পটাই সত্যি হলো। ঘোর কাটল না। বাস্তবেই রয়ে গেলাম। শুধু তুমি রূপকথায় চলে গেলে। ছেড়ে গেলে আমার শৈশব। রেখে গেলে প্রাচীন প্রাসাদ।

এই শীতে গুটিগুটি পায়ে ফিরে এসেছে প্রেম, ফিরে এসেছে ঝগড়ুটে। আজ যখন লিখতে বসেছি তখন রবিবার। প্রতি রবিবারের মতো এই রবিবার বারবার করে তোমার কথা মনে পড়ছিল। মনে পড়ছিল তুমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে রোদ মাখতে। বড্ড অদ্ভুত লাগত তোমার ছেলেমানুষি। বড্ড একগুঁয়ে তুমি। জেদি তুমি। মনে আছে, আমাকে একটা সাদা জামা উপহার দিয়েছিলে। যে জামাটা ঘাট কাজের সময় ঘাটেই ছেড়ে এসেছিলাম। সেই রোদভাঙা মেঘ থেকে সোনা আলো সদ্য ছড়িয়ে পড়েছে, মাথা কামিয়ে আমি জলে ডুব দিলাম। জল থেকে উঠতেই সেই সোনা রোদ মেখে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে শৈশব ভাঙলাম। তখন জলে রোদ খেলা করছে। তোমার কথা বড্ড মনে পড়ছিল মেঘ। তুমি তখন অন্য কোথাও, অন্য কোনও দেশে। আজ রবিবাসরীয় সকালে তোমার চেনা পথ দিয়ে যেতে যেতে দেখতে পেলাম তুমি সেই বারান্দায় বসে আছো। রোদ এসে পড়েছে তোমার হলুদ গ্রিলে। এক নিমেষে ফিরে গেলাম সেই শীতে। যখন রুক্ষ ত্বকে সবেমাত্র বোরোলিন লাগাতে শুরু করেছি। তখন সদ্য তুমি এসে দাঁড়িয়েছো আলোয়। টোল পড়া গালে শুধুই হাসি। মনে পড়ে মেঘ, আমরা বলেছিলাম, এই রোদের চাদরে আমরা লেপ্টে থাকব। কথা না হলেও আমরা ঠিক কথা বলব।

বাবার ইচ্ছে ছিল বাবাকে যেন রামঘাটেই দাহ করা হয়। যে গঙ্গার ধার, শ্মশান ঘাট ছোট দেখে বড় হয়েছিল। গঙ্গার ঘাটেই তার মৃত্যু লেখা ছিল সেটা কে জানত। কে জানত কয়েক নিমেষে সবটা শেষ হয়ে যাবে। কে জানত মাত্র তিরিশ মিনিট আগে যে শরীরটা হেঁটে বাড়ি থেকে বেরোলে সে আর হেঁটে ফিরবে না। সব মায়া কী অনায়াসে সে কাটিয়ে চলে গেল। বাবাকে যখন দেখলাম ছাই ঘাটের সন্তোষী মা'-এর মন্দিরে, মুখ থেকে গাঁজলা উঠে গিয়েছে। চোখ ঠুকরে বেরোনো। মনে হচ্ছে শেষ মুহূর্তটা খুব কষ্টে গিয়েছে। কিন্তু আমি সেই কষ্টটা বুঝতেও পারলাম না। ঠিক তেমনি আমি জানি না মেঘ, তুমি কতটা কষ্টে আছো। শুধু এইটুকু জানি, তুমি আমার আশেপাশেই আছো। ঠিক যেমনি বাবা আছে।

মেঘ, এতদিন পরে এত কাছে এসে দাঁড়ালে তবুও একটা শব্দ খরচ করলে না। কী অদ্ভুত লাগল। কী আশ্চর্য লাগল এই দূরত্বটা। গোটা রাতটা জেগে কাটিয়েছি। ভেবেছি এই দূরত্বটা কি প্রাকৃতিক? নাকি আমার শৈশব ভাঙার জন্য এমনটাই দরকার ছিল। বাবা মারা যাওয়ার ঠিক পরের দিন তোমার ফোন পেয়েছিলাম। তাও লোক মারফৎ তোমাকে খবর দেওয়াতে ফোন করেছিলে। মনে হচ্ছিল অনুভূতি শূন্য একটা মানুষ। কেমন আছো মেঘ? ভাল আছো তো? তোমার ভাল চাওয়া ছাড়া এই মুহূর্তে আর কিছু করতে পারব না। সব শক্তি হারিয়ে ফেলেছি। বাবা চলে যাওয়ার পরে মানসিক ভাবে এতটাই বিধস্ত যে আর কোনও ভাবনা মনে আসছে না। শুধু মনে হয়েছে যদি কোনওদিন আমাকে এত কাছের ভেবে থাকলে, সেদিন কেন কথা বললে না ? মেঘ আরও জমল। দূরত্ব আরও বাড়ল। বাবাকে নিয়ে শেষবার যখন বাড়ি ফিরছি, অ্যাম্বুলেন্স-এ তখন আমি একা। সাইরেনের শব্দ হচ্ছে। শেষবারের মতো বাবা বাড়ি ফিরল। ছোটবেলার কথা মনে পড়ছিল। কত কতবার তুমি আমাকে ডাক্তার দেখিয়ে নিয়ে ফিরতে। কত কতদিন আমার আশ্রয় হয়ে থেকেছো। কিন্তু আমি তোমাকে নিয়ে শেষবারের মতো, তোমার ঠান্ডা শরীর নিয়ে বাড়ির পথে ফিরছি। জীবনে প্রথম এবং শেষবারের মতো 'অ্যাম্বুলেন্স'-এ উঠলে। কত সহজে চলে যাওয়া যায় সেটা তুমি দেখিয়ে দিলে। কত সহজে আস্ত একটা শরীর থেকে আট বাই বারো সাইজের ফ্রেমে এসে দাঁড়ালে। জীবনটা কতটা বেখেয়াল, কতটা উন্নাসিক।

বুঝলে মেঘ, তোমার প্রিয় শান্তিনিকেতন থেকে বাবা শেষবারের ঘুরে এলো চলে যাওয়ার একদিন আগে। সেই উদীচী, উত্তরায়ান, লাল মাটি মেখে বাবা দিব্যি চলে গেল। আমার কতটা প্রিয় শান্তিনিকেতন সেটা তুমি জানো। তুমি জানো আমার সবকিছু। তবুও আমার ভাঙা শৈশবের শেষ লগ্নে বড্ড ছন্নছাড়া লাগছে। তোমার জন্য কোনও অভিযোগ নেই। বিশ্বাস করো, তোমার স্থান অনেক উপরে। আমার শৈশব সেইদিনই শেষ হয়ে গিয়েছে যেদিন বাবা চলে গিয়েছে। তাই আজ আর আক্ষেপ করি না। তবুও তোমার অপেক্ষা করি। তোমার এই নিছক দূরত্বের পিছনে হয়ত একটা গল্প আছে। আমার মনে হয় তুমি ফিরবে, মনে হয় আবার বৃষ্টি হবে প্রথম দেখা হওয়ার মতো। আর যদি কোনওদিন না ফেরো, তবে সেটাও বলে দিও। তবুও আমি তোমার জন্য নতজানু হয়ে তোমার ভালই চাইব।

ঝরা পাতার দলের পিছনে ছুটতে ছুটতে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছি। সেই সাইরেন, শ্মশানের গন্ধ, ঘুম ভাঙা মধ্যরাত, না লিখতে পারার যন্ত্রনা এবং তুমি। সেই রোদ, হলুদ বারান্দা, তোমার বাড়ির চেনা পথ, হাইড্রেনজিয়া, বাবার চলে যাওয়া। আমার আদুরে শৈশব ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়া। তবুও যা কিছু আছে ভাল, তাই হোক।

(ছবি এবং কারুকার্য- সাত্ত্বিক ব্যানার্জী)

ট্যাগসূচী:#Father#Life#Love#DailyLife
লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন:
আদিত্য ঘোষ

আদিত্য ঘোষ

লিখতে চাওয়ার অঙ্গীকার

পাঠকের মন্তব্য (0)

মন্তব্য করার জন্য আপনার সোশাল অ্যাকাউন্ট বা অতিথি মাধ্যম বেছে নিন:

Anay Biswas
Architected & Engineered byAnay BiswasFull-Stack Dev