দেবীর দেশ, পর্ব ৭
সেই রাস্তা দিয়ে এগিয়ে গেলেই কয়েকটা সিঁড়ির ধাপ, সিঁড়ির ধাপ বেয়ে উঠে ছোট্ট বারান্দা। বারান্দা পেরোলেই লাল মেঝে। জীবনের চিত্রপঠে সে এক আশ্চর্য অনুভূতি। রাতুলের শৈশব জুড়ে সেইসব দিনগুলো এখনও মনখারাপের ওষুধ হয়ে ওঠে।
এই বিভাগের বিশেষ সংকলন ও নতুন রচনা।
সেই রাস্তা দিয়ে এগিয়ে গেলেই কয়েকটা সিঁড়ির ধাপ, সিঁড়ির ধাপ বেয়ে উঠে ছোট্ট বারান্দা। বারান্দা পেরোলেই লাল মেঝে। জীবনের চিত্রপঠে সে এক আশ্চর্য অনুভূতি। রাতুলের শৈশব জুড়ে সেইসব দিনগুলো এখনও মনখারাপের ওষুধ হয়ে ওঠে।
ওরা জানত, এই প্রেমের কোনও ভবিষ্যৎ নেই। এখানে শুধু দূরত্ব, বিষণ্ণ মেঘ আর হাহাকার। তবুও ওরা জাপটে ধরেছিল অবসরে। সবুজ আলো জ্বলা ক্যাফের ভিতর প্রায় প্রতিদিন ওদের আসর বসত। দু'কাপ গ্রিন টি ছিল ওদের দোসর।ওদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল বাংলা সাহিত্য আর বিদেশের দিকশুন্যপুর।
দেবীর প্রেম রাতুলকে এনে ফেলেছিল এক অন্য মহাদেশে। দেবী চলে যাবে। তবুও সেই প্রেমটা থেকে যাবে। যে প্রেমটা রাতুলের শিরায় উপশিরায় বেঁচে থাকবে এক ফুর্তি নিয়ে।
' একদিন দেখা হতে পারে?' তখন সদ্য দু'একটা কথা শুরু হয়েছে। আপনি থেকে তুমিতে এসেছে সম্বোধন। সন্ধে নেমেছে। শাঁখ বেজেছে ক্লান্ত নৈহাটির বুকে। উত্তর এল,'দেখা যাবে।'
নৈহাটির আকাশে কালপুরুষ দেখে বড় হয়েছে রাতুল। গরিফার এক কোণে, শতাব্দী প্রাচীন বাড়িতে বড় হওয়া রাতুল জানত, এ জীবনের ভাল থাকা মানে মাসের চারটে রোববার খাসির মাংস খাওয়া। রাতুলের বাড়ির ছাদ থেকে দেখা যায় গরিফা মিলের উঁচু চিমনি।
তোমাকে খুঁজতে খুঁজতে সে এখন শখের প্রত্নতাত্ত্বিক হয়ে উঠেছে। তবুও তোমার মনের খোঁজ সে এখনও পায়নি। তবুও তার হেঁটে চলা এই নৈহাটির পথ বেয়ে।
ভাগীরথীর পূর্বে তখন এক বিচ্ছিন্ন জনপদের মতো বেঁচে ছিল আজকের নৈহাটি। নাম ছিল না। ছিল না কোনও পরিচয়।

সেদিন বাবাকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স করে ফিরছি। রাস্তা ফাঁকা। কত কাছের রাস্তাটা বাবা অ্যাম্বুলেন্স করে ফিরছে।
দেবাঞ্জলির পরে আর প্রেম আসেনি। আর কাউকে মনে ধরেনি।

আটপৌরের প্রথম ম্যাগাজিনে তোর একটা লেখা ছিল। লেখার শিরোনাম 'ভাসান ড্যান্স', যদিও তোর খুব একটা লেখার ইচ্ছে ছিল না।

তুমি জানুয়ারীর শেষে দেশে ফিরলে। প্রথম দিন দেখে মনে হয়েছিল হয়ত কোনও যুদ্ধ শেষে ফিরলে।
আমাদের স্কুলের প্রায় প্রতিটা ক্লাসরুম থেকেই গঙ্গা দেখা যেত। মাঝেমধ্যে গঙ্গার হাওয়া খেতে খেতে যে কোথায় হারিয়ে যেতাম কে জানে!
স্ট্রেট ড্রাইভের মতো তোমার জীবন ছিল
আমাদের মতো করে আমরা পথ খুঁজে নিয়েছি। ভাল থাকার অভ্যেস করেছি।আমি জানি না তুমি কেমন আছো? কিন্তু ইচ্ছে করে একবার তোমার মুখোমুখি বসি। এই শহরটা সাক্ষী থাকবে শুধু।
আমার ছোটবেলায় যেটুকু রোদ ছিল, সেই রোদের সূর্য ছিলে তুমি।
